পুনরাবৃত্ত

মোহনা দুদিন ধরে স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে প্যাকিং সারছে। বেদ মুম্বাই থেকে ব্যাঙ্গালোরে ট্রান্সফার হয়েছে। মোহনাও ওখানে একটা স্কুলে জয়েন করবে। আলমারি থেকে জামা কাপড়গুলো বের করে গোছানো হয়ে গেছে। বাসনপত্রও মোটামুটি প্যাক হয়ে গেছে। অল্প কিছু বাসন দুদিনের রান্না-খাওয়ার জন্য রাখা আছে। এবার শুধুমাত্র ফার্নিচারগুলো খুলে নিলেই হয়ে যাবে। পরশু প্যাকারস এর ছেলেরা এসে মালContinue reading “পুনরাবৃত্ত”

দুই প্রাপ্তি

প্রথম গল্প – রূদ্ধ দিনের প্রাপ্তি ১। —ও মনুর মা, খানিকটা ডাল হবে গো? ঝন্টুটা দুদিন ধরে খিচুড়ি খেতে চাইছে।—ওর শরীলটা এখনো সারেনি কো?—আজ পাঁচ দিন পর জ্বর আর আসেনি। খুব দুব্বল হয়ে গেছে। ইস্কুলে গেলে ভাত তরকারি বা খিচুড়ি যা হোক পেতো। ডাক্তার-ওষুধ করে ট্যাকাও সব শেষ। লোকটাও দুদিন জল ঝড়ে কাজে যেতে পারেContinue reading “দুই প্রাপ্তি”

এক ভিখারির আকস্মিক মৃত্যু

“দাদা, কি ব্যাপার ? আপ প্ল্যাটফর্মে এত ভিড় কেন ?” অমরেশদা অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল আপ প্ল্যাটফর্মের দিকে, আমার প্রশ্নে একটু  বিস্মিত হল । “সাইকেলের দোকানে কিছু শুনতে পেলি না ?” “না, আসলে কাটোয়া লোকাল মিস করলে যে রক্ষে নেই! তাই, যা হোক করে সাইকেল রেখে, হাঁপাতে হাঁপাতে এলাম, দেখছো তো ?” “ও আচ্ছা, নাContinue reading “এক ভিখারির আকস্মিক মৃত্যু”

সংযোগ

ঘটনাটা নিতান্তই সাধারণ। হয়তো লিখে রাখবার মতনও নয়। আমাদের মাছ-ভাতের ঘড়ি ধরা জীবনের একরঙা যাত্রাপথে নেহাতই হঠাৎ চোখে পড়া উজ্জ্বল বেগুনি কিংবা চকচকে কমলার মতন – আচমকা নজরে পড়লে চোখ ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। হয়তো বাড়ি ফিরেও ওই চোখ আটকে যাওয়ার কথাটা মনে পড়ে যায়; রাতে খাবার টেবিলে মাংস-রুটি চিবোতে চিবোতে বাড়ির লোকের কাছে গল্পContinue reading সংযোগ

দুঃসময়

ওরা কেষ্টের জীব। বেইমানি, বিশ্বাসঘাতকতা জানে না। তাই মরণের ভয়ে ঘরে সেঁধিয়ে থাকতে হয় না। বুঝেছো?

একটা সাধারণ চিঠি

প্রিয় ম্যাম,            প্রথমেই বলে দিই যে চিঠি লেখাটা আমার আসে না, কারণ দরকার পড়েনি কোনোদিন লেখার। বাংলা পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের- “তোমার মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি কেমন চলছে তা জানিয়ে তোমার বন্ধুকে একটি চিঠি লেখ” জাতীয় চিঠির বিষয়টা আলাদা। পরীক্ষার হলে এতগুলো নম্বরের প্রশ্ন তো আর ছেড়ে আসা যায় না! তাই লিখতে হয় বাধ্য হয়ে। পড়াশোনা বাদContinue reading “একটা সাধারণ চিঠি”

প্যারাসিটামল

টেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখছিল আনজুম। এমন ধুলোহীন নির্মল নীলাকাশ তাদের কলকাতা শহরে সে কেন, তার বাপ ঠাকুরদ্দাও দেখেনি কোনোদিন। যতদূর চোখ যায় কেবল সুউচ্চ পর্বতচূড়ার দল সগর্বে মাথা তুলে বিরাজমান। দূরের পাহাড়গুলোর মাথা সবই সাদা, আর কাছেরগুলো চোখ জোড়ানো সবুজ। সবুজের গায়ে জায়গায় জায়গায় চোখে পড়বে আগুনরঙা লালের ছোপ।

বৃষ্টিদিনের উইন্ডস্ক্রিন

শ‍্যামল বৃষ্টি দেখতে খুব ভালোবাসে, হয়ত দেখার থেকে বৃষ্টি শুনতে বেশী ভালোবাসে। কাকেরা কি অভিমানী টাইপস হয়? এমনি এমনি বৃষ্টি ভেজে? এইসব ভাবনা ভিড় করে চা খেতে খেতে।আজ রবিবার নয় তাই খুব বেশী ভাবুক হওয়া চলে না। যদিও মাসের দু-সপ্তাহ পার হওয়ার আগেই দু-দুটো লেট মার্ক হয়েছে। তিন নম্বরের বার হলে একদিনের স‍্যালারি! একেই খামখেয়ালীContinue reading “বৃষ্টিদিনের উইন্ডস্ক্রিন”

উত্তরসূরি

১)         এই গল্পের মুখ্য চরিত্র রবি গাঙ্গুলি এক বিখ্যাত বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত উচ্চপদস্থ অফিসার। রবি কলকাতায় নির্ঝঞ্ঝাট জীবন কাটায়, তার পরিবারের সাথে। স্ত্রী ইংরাজি-মাধ্যম স্কুলের শিক্ষিকা, একটি মাত্র কন্যাসন্তান বড় স্কুলে পড়াশুনো করে। রবির জীবনে আক্ষরিক অর্থে কোন কিছুরই অভাব নেই – তিন-তিনটে বিদেশি গাড়ি, কলকাতার বুকে দু-দুটো ফ্ল্যাট, একটা বাড়ি, ব্যাঙ্কে ক্যাশের পরিমাণওContinue reading “উত্তরসূরি”

সহধর্মিণী

১ সামনে রাখা ছবিটার দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে বসে আছে মতিলাল। চোখে চশমা, পরনে নতুন ধুতি, খালি গায়ে একটা সুতির চাদর জড়ানো। তাঁর দৃষ্টি ঝাপসা। বসে আছে ঠিকই কিন্তু সামনে কি হচ্ছে দেখছে না। মানুষ চোখ দিয়ে দেখে না। চোখ দিয়ে জগতের আলো ঢোকে ঠিকই কিন্তু দেখে মানুষের মন। তাই মন যদি অন্যদিকে থাকে চোখেরContinue reading “সহধর্মিণী”