ঘটনাটা নিতান্তই সাধারণ। হয়তো লিখে রাখবার মতনও নয়। আমাদের মাছ-ভাতের ঘড়ি ধরা জীবনের একরঙা যাত্রাপথে নেহাতই হঠাৎ চোখে পড়া উজ্জ্বল বেগুনি কিংবা চকচকে কমলার মতন – আচমকা নজরে পড়লে চোখ ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। হয়তো বাড়ি ফিরেও ওই চোখ আটকে যাওয়ার কথাটা মনে পড়ে যায়; রাতে খাবার টেবিলে মাংস-রুটি চিবোতে চিবোতে বাড়ির লোকের কাছে গল্পContinue reading “সংযোগ“
Category Archives: Short Story
দুঃসময়
ওরা কেষ্টের জীব। বেইমানি, বিশ্বাসঘাতকতা জানে না। তাই মরণের ভয়ে ঘরে সেঁধিয়ে থাকতে হয় না। বুঝেছো?
একটা সাধারণ চিঠি
প্রিয় ম্যাম, প্রথমেই বলে দিই যে চিঠি লেখাটা আমার আসে না, কারণ দরকার পড়েনি কোনোদিন লেখার। বাংলা পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের- “তোমার মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি কেমন চলছে তা জানিয়ে তোমার বন্ধুকে একটি চিঠি লেখ” জাতীয় চিঠির বিষয়টা আলাদা। পরীক্ষার হলে এতগুলো নম্বরের প্রশ্ন তো আর ছেড়ে আসা যায় না! তাই লিখতে হয় বাধ্য হয়ে। পড়াশোনা বাদContinue reading “একটা সাধারণ চিঠি”
প্যারাসিটামল
টেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখছিল আনজুম। এমন ধুলোহীন নির্মল নীলাকাশ তাদের কলকাতা শহরে সে কেন, তার বাপ ঠাকুরদ্দাও দেখেনি কোনোদিন। যতদূর চোখ যায় কেবল সুউচ্চ পর্বতচূড়ার দল সগর্বে মাথা তুলে বিরাজমান। দূরের পাহাড়গুলোর মাথা সবই সাদা, আর কাছেরগুলো চোখ জোড়ানো সবুজ। সবুজের গায়ে জায়গায় জায়গায় চোখে পড়বে আগুনরঙা লালের ছোপ।
বৃষ্টিদিনের উইন্ডস্ক্রিন
শ্যামল বৃষ্টি দেখতে খুব ভালোবাসে, হয়ত দেখার থেকে বৃষ্টি শুনতে বেশী ভালোবাসে। কাকেরা কি অভিমানী টাইপস হয়? এমনি এমনি বৃষ্টি ভেজে? এইসব ভাবনা ভিড় করে চা খেতে খেতে।আজ রবিবার নয় তাই খুব বেশী ভাবুক হওয়া চলে না। যদিও মাসের দু-সপ্তাহ পার হওয়ার আগেই দু-দুটো লেট মার্ক হয়েছে। তিন নম্বরের বার হলে একদিনের স্যালারি! একেই খামখেয়ালীContinue reading “বৃষ্টিদিনের উইন্ডস্ক্রিন”
উত্তরসূরি
১) এই গল্পের মুখ্য চরিত্র রবি গাঙ্গুলি এক বিখ্যাত বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত উচ্চপদস্থ অফিসার। রবি কলকাতায় নির্ঝঞ্ঝাট জীবন কাটায়, তার পরিবারের সাথে। স্ত্রী ইংরাজি-মাধ্যম স্কুলের শিক্ষিকা, একটি মাত্র কন্যাসন্তান বড় স্কুলে পড়াশুনো করে। রবির জীবনে আক্ষরিক অর্থে কোন কিছুরই অভাব নেই – তিন-তিনটে বিদেশি গাড়ি, কলকাতার বুকে দু-দুটো ফ্ল্যাট, একটা বাড়ি, ব্যাঙ্কে ক্যাশের পরিমাণওContinue reading “উত্তরসূরি”
সহধর্মিণী
১ সামনে রাখা ছবিটার দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে বসে আছে মতিলাল। চোখে চশমা, পরনে নতুন ধুতি, খালি গায়ে একটা সুতির চাদর জড়ানো। তাঁর দৃষ্টি ঝাপসা। বসে আছে ঠিকই কিন্তু সামনে কি হচ্ছে দেখছে না। মানুষ চোখ দিয়ে দেখে না। চোখ দিয়ে জগতের আলো ঢোকে ঠিকই কিন্তু দেখে মানুষের মন। তাই মন যদি অন্যদিকে থাকে চোখেরContinue reading “সহধর্মিণী”
পাগল ছেলে
“কি রে, অফিস যাবি না? সারে আটটা বাজে তো।” মায়ের ডাকে ধড়মড় করে উঠে বসল পলাশ। সারে আটটা মানে আজও অফিস লেট! নিজেকে নিজে খিস্তি দিল মনে মনে। মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখল পৌনে আটটা সবে। “উফ, মা, পৌনে আটটা সবে।” রান্নাঘর থেকে মা বলে উঠল, “রেডি হও, লেট হয়ে যাবে,নিজের তো দায়িত্ব নেই,সব দায় যেনContinue reading “পাগল ছেলে”
পটলার ভাঙল স্বপ্ন
১ পটলার শরীরটা একদম চ্যাপ্টা গোছের। বেঁটে, শক্ত-পোক্ত, আর গায়ে প্রবল শক্তি। অনেক ছোটবেলায় ওর মামা একদিন ওর মাকে বলেছিল – দিদি, পটলা দেখবি একদিন ভালো ফুটবল খেলবে। পটলারা বড় পরিবার – অন্তত এক সময় ছিল। বাবা একটা ছোট দোকান খুলে ব্যবসা শুরু করেছিল, কিন্তু কয়েক বছর পর বাবা হঠাৎ করেই মারা গেল। মা আরContinue reading “পটলার ভাঙল স্বপ্ন”
