কিছু কথা কিছু পল মনের জানালা খোলা| কিছু মান কিছু অভিমান তীব্র দহন জ্বালা| কিছু রোদ কিছু আলো আঁধার রাতের শেষে| মনজোড়া যত কালো মুছলো যে নিমেষে| কিছু পাওয়া কত না-পাওয়া হিসেবের খাতা বাকি| প্রতি ক্ষণে মনে মনে চলছে যে আঁকিবুঁকি | কে যেContinue reading “কথা ছিল বাকি”
Category Archives: Poetry
চাহনি!
ভিন্ন আমি,ভিন্ন তুমিভিন্ন এ সমাজশুধু ভিন্ন নয় দৃষ্টিভঙ্গিএকই রয়ে যায়।যুগের পরে যুগ কেটে যায়চাহনি একই রয়,এসব একচোখামিরেই নাকিলোকে সমাজ স্বজন কয়।মুচির ছেলে মুচিই হবেচাষার ছেলে চাষা,উন্নত এই সমাজ সভেওদের, চাটতে হবে পা।যাদের ছাড়া পা চলে নাতাদের ওপর রোয়াপ ঝারে,নিজের পেটে লাথি মেরেচাষার ওপর ক্ষোভে মরে।চাষা যদি লাঙ্গল ফেলেআফিসেতে যায়চাকুরে বেতার – জুটবে কি ভাত?সে, নাContinue reading “চাহনি!”
শব্দ
কোনো শব্দ শুনতে পেলে? পূজোর শব্দ? ঢাক, কাঁসর ঘন্টা, টিনের বন্দুকে ক্যাপ ফাটানোর শব্দ? মন্ত্রোচ্চারণের শব্দ শুনতে পেলে? শুনতে পেলে, ঘন্টার শব্দ? চন্ডীপাঠ হচ্ছে শুনতে পেলে? আমি কিচ্ছু শুনতে পাচ্ছি না। অনেক দূরে কেউ যেন কাঁদছে। একটা ছোট্টো মেয়ে। তার পড়নে লাল পেড়ে সাদা শাড়ী। ডাগর ডাগর চোখ। চোখ ভর্তি জল আর জল ভর্তি দুঃখ।Continue reading “শব্দ”
উৎসব কালে
এমনটা হয় দূর্গা পূজা মানেশরৎ-এর নীল আকাশহালকা মৃদু বাতাস || দূর্গা পূজা মানেকাশ বন দেখে ভরে ওঠে মন || দূর্গা পূজা মানে শিউলি ফুলের গন্ধ স্কুল কলেজ সব বন্ধ || দূর্গা পূজা মানে সপ্তমীতে সবাই একসাথে গল্প করা কটা দিন থাকনা বন্ধ পড়া || দূর্গা পূজা মানে অষ্টমীর সকালে অঞ্জলির সাজ সন্ধ্যায় ঢাকের তালে ধুনুচি নাচ || দূর্গা পূজা মানেনবমীতে খিচুড়ি ভোগ, সন্ধে আরতি দল বেঁধে ঠাকুর দেখা সারা রাত্রি || দূর্গা পূজা মানেদশমীতে লাল পেড়ে শাড়ী পরে সিঁদুর খেলা সময়ে বলছে, এখন যে বিসর্জনের বেলা || দূর্গা পূজা মানেমন দুঃখে ভরেআবার আসবে মা, একটি বছর পরে || তবে এমনটাও হয় ঝোড়ো হাওয়ায় দুলছে গাছের পাতাচড়ুই পাখিরা দানা মেলে ফিরেছে বাড়িচারিদিক ছেয়ে এসেছে কালো ঘন মেঘ ,দূরে যেন সব কিছু ঝাপসা |যদি বৃষ্টি নামেকান পাতবো তোমার গায়েশুনবো আবার তোমার কথা |সেজেছে সাত-রং মাখা রঙিন আকাশ আবারও যদি বৃষ্টি আসে বিকেলবেলায়খুঁজে নেবো আকাশের ঠিকানাContinue reading “উৎসব কালে”
দুটি কথা
অভয়ার খোলা চিঠি শ্রীচরনেষু মা, কেমন আছিস তােরা সবাই? বাবার শরীর ভালাে? চেহারা তােদের খুব ভেঙ্গেছে, চোখের তলায় কালো। সদরটাতে খিল এঁটেছিস, খাওয়া-দাওয়া প্রায় ছেড়েছিস, অনিয়ম আর অভিমানে মরবি তােরা নাকি? এমনতর কষ্ট পেলে আমি কি সুখে থাকি? ঐ ভাইটা নাকি ছাড়া পেয়েছে? তাতেই কি তাের রােষ? ছােট ছেলে, ছেলেমানুষ, ওর কি আছে দোষ! দাদারাContinue reading “দুটি কথা”
শব্দ-র জীবন
শব্দ প্রাণের উৎসমুখ ‘নাদ ব্রহ্ম’ স্বরূপ – দেহ- প্রাণ-মনের গভীরে রূপের মাঝারে অরূপ। শব্দ ছোটে বিশ্বমাঝে, সকল মর্মে, সকল কাজে; মুক্তপ্রাণে লক্ষধারায় জীবনের সুরে বাজে। সকাল-সন্ধ্যা পাখির ডাকে, গর্জে ওঠা নদীর বাঁকে, ঝিরঝিরানি পাতার ফাঁকে শব্দ থাকে জেগে। বজ্র-মেঘের যুগলেতে গভীর শব্দ ওঠে জেগে; আবার, বৃষ্টিধারার সেইContinue reading “শব্দ-র জীবন”
ত্রয়ী
১) ফুটপাথটা আজও অপেক্ষায় আছে… একদিন সোনালী বিকেলেঅনেকটা দূর এগিয়ে ছিলাম যেতে যেতে,শহরের চওড়া রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে ফুটপাথটা,সেই ছোট ছোট বাচ্চাদের জন্য, যারা স্কুল ছুটির শেষে-“বেলুন-কাকু! বেলুন-কাকু!আমার এই বেলুনটা চাই!” বলে বায়না করতো,কেউ অন্য রঙের আর কেউ বা বড় বেলুন চাইতো |এইভাবে অনেক দিন কেটে যায়,আজও ফুটপাথটার কাছে একটা বড় কৃষ্ণচূড়ার গাছ আছেতারই ফাঁক দিয়েContinue reading “ত্রয়ী”
তিন তাল
১। চাঁদ পোড়া পাতা পলাশ রঙ কি ছিল হাওয়ায় কিছু দিন জ্যোৎস্নায় গড়ায় কাঠুরিয়া পথে গিরিবর্তে ঝুলে আছে অভিজ্ঞান ফাগুনে ফুলেল ছিল কিছুদিন টিপা গাছের ডালের পাশে আকাশের ফ্যাকাসে ফলগুলি মোহ হয়ে ঝোলে কোন লেশ নেই, চাঁদ পোড়া পাতা ঝরে যাবে, সময়ের কাছে ঋণ। নূপুর ছিল না, ঝোরায় পা ফেলা চেটোয় কুকার বন্দীContinue reading “তিন তাল”
সীমাবদ্ধ
সীমাবদ্ধতার দুর্বোধ্য প্রাচিরে আটকা পড়ে আছি। জানি এ থেকে আর মুক্তি নেই, নেই আর কোনো পরিত্রাণ। বাসভূমে কে কবে পেয়েছে বলো জীবনের হদিশ? মুক্ত হতে পায়ে পায়ে বাধা দুর্লঙ্ঘ্য প্রাণের। নিজ হাতে কিনে আনি ইট কাঠ পাথরের স্থাবর সম্পদ, কিনে আনি ক্ষুন্নিবৃত্তির টুকিটাকি, শয্যাতল, বিছানা বালিশ পরিধান বস্ত্র, আর কিনে আনি অমূল্য শক্তির ভাণ্ডার, প্রাণContinue reading “সীমাবদ্ধ”
