তুমি

তাও তুমি তাকেই ঘিরে বাঁচো..। 

তাই তো সূর্যও হেরে য়ায় অনায়াসে তোমাকে দেখে, মুখ ঢাকে কখনো মেঘে… ,

তোমার চোখের বাষ্প মিশে গেছে পৌষালী সকালের কুয়াশায়।

তাই তুমি প্রেমিক, তাই তুমি উন্মাদ, তাই তুমি মানুষ নও।

তবুও তুমি তার নামেই ঝরে পড়ো ভীষণ যন্ত্রণায়। 

রক্তক্ষরণে তাকেই খোঁজো।

পিপাসায়-ক্ষুধায় গ্রহণ করো অনায়াসে তার 

নাম নেওয়া মূহুর্ত সকাল বিকাল।

সমুদ্রও বুঝি হার মানে তোমার বুকের গভীরে অনন্ত তরঙ্গের কাছে।

কি প্রবল তপস্যা তোমার,

তুমুল যন্ত্রণার ঝড়ে, নিশ্বাসের 

সঙ্গে যুদ্ধ করে তাকে চাও তবু..

যে তোমাকে ভুলেছে … হয়তো বা 

ভোলেনি সেও.. যুদ্ধরত …॥

সেদিন একটা ‘তুমি’ ছিলো।

বন্ধ জানলা খুলে দেখতাম,

আকাশ জুড়ে চোখের আলো।

কন্ঠস্বরে মেঘের শব্দ, যার পরতে পরতে

জলের অনুবাদ…..।

কথাগুলো কবিতা হয়ে ঝরে পড়তো

বকুল বনে। সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়তো

খোলা ছাদে। আর দীঘল চুল খুলে

স্বপ্ন দেখতো কেউ। সেই চুল মেখে নিতো

পূবালী হাওয়া। তার হাসির দীঘীতে ইচ্ছে

খুশি ভাসতো সেই ‘নিরুদ্দেশ’। বন্ধ দরজা

জুড়ে ছিলো তার স্পন্দনের করাঘাত।

এলো খোঁপার বাঁধন খুলে মনের ঘরে পা ফেলতো ভীনদেশী।

দাপিয়ে  বেড়াতো হৃৎপিন্ডের অলিন্দ, নিলয়, প্রকোষ্ঠ।

দুরন্ত ঠোঁটের নিরব প্রশ্রয়ে কতো গল্প কথা

আঁকা হত চোখের পালক-কলমে, কাজল-কালিতে। 

সেদিন একটা ‘তুমি’ ছিলো।

খোলা ছাদ ছিলো, বাসন্তিকা বৃষ্টি ছিলো।

শুকনো পাতায় মর্মর-আওয়াজে

পা ফেলে হাঁটার  ছন্দ ছিলো। 

আরো কতো কি ছিলো ।

এখনো জেগে আছে।

আরো বেশী করে ‘তুমি’ নিয়ে।

শ্যাওলা ধরা কার্নিশে, নোনা ধরা দেওয়ালে

‘তুমি’ র গল্প কান পেতে শুনি।

আবার ফিরে ফিরে আসে হিমেল রাতে

ঘরের স্বপ্ন।

কানাঘুষো করে শিশিরের ফোঁটা, ‘তুমি’ এসেছে? আমি বলি, না,না, বৃষ্টি এলো, 

শীতের রাতে, ‘তুমি’ নামের…।

রচনা – সঞ্চারী বিশ্বাস

Leave a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.