কোনো শব্দ শুনতে পেলে?
পূজোর শব্দ?
ঢাক, কাঁসর ঘন্টা,
টিনের বন্দুকে ক্যাপ ফাটানোর শব্দ?
মন্ত্রোচ্চারণের শব্দ শুনতে পেলে?
শুনতে পেলে, ঘন্টার শব্দ?
চন্ডীপাঠ হচ্ছে শুনতে পেলে?
আমি কিচ্ছু শুনতে পাচ্ছি না।
অনেক দূরে
কেউ যেন কাঁদছে।
একটা ছোট্টো মেয়ে।
তার পড়নে লাল পেড়ে সাদা শাড়ী।
ডাগর ডাগর চোখ।
চোখ ভর্তি জল
আর জল ভর্তি দুঃখ।
তার ঘর ভেসে গেছে বন্যায়।
মা বাবা ভাই কোথায় হারিয়ে গেছে
ও জানে না।
শুধু মনে পড়ছে ওর
এক ঝাঁক শব্দের কথা।
সেই শব্দগুলো কোনো এক মন্দির থেকে আসা।
সারহীন কিছু মন্ত্রোচ্চারণ।
সে ঢুকতে পারেনি মন্দিরে।
তার শাড়ী ছিন্ন।
পূজোর শেষে প্রসাদ পাবার আশায়
সে ঘুরে বেড়াচ্ছিলো। পেলো না।
গন্ধ পাচ্ছিল ধুপ ধূনো আর
ক্যাপ ফাটানো বন্দুকের।
চারিদিকে নতুন জামার গন্ধ।
কোনো শব্দ নেই।
কেউ জানলো না।
মা দূর্গা চোখ ভর্তি জল
আর জল ভর্তি দুঃখ নিয়ে
কোথায় ভেসে গেলেন
কেউ জানে না।
সেখানে মন্ত্রোচ্চারণের অসার শব্দ নেই।
ঢাকের, কাঁসরের শব্দ নেই।
জাতপাতের বেড়া নেই।
ছোটো বড় ভেদ নেই।
সেখানে মা দূর্গা বাস করেন।
কার্তিক গনেশ লক্ষ্মী সরস্বতী খেলা করেন।
আর থাকে মানুষ ।
সেখানে মেয়েটি আগমনী গাইলো।
প্রান ভরে হাসলো।
আমি শুনতে পেলাম সেই শব্দ।
খিলখিলিয়ে হাসির শব্দ।
Author : Chinmoy Chakraborty

