অভয়ার খোলা চিঠি
শ্রীচরনেষু মা,
কেমন আছিস তােরা সবাই? বাবার শরীর ভালাে?
চেহারা তােদের খুব ভেঙ্গেছে, চোখের তলায় কালো।
সদরটাতে খিল এঁটেছিস,
খাওয়া-দাওয়া প্রায় ছেড়েছিস,
অনিয়ম আর অভিমানে মরবি তােরা নাকি?
এমনতর কষ্ট পেলে আমি কি সুখে থাকি?
ঐ ভাইটা নাকি ছাড়া পেয়েছে? তাতেই কি তাের রােষ?
ছােট ছেলে, ছেলেমানুষ, ওর কি আছে দোষ! দাদারা সব খেলায় পটু, ভাইটা একটু কাঁচা,
এখন তাে ওর বয়স শেখার
পাখনা মেলে একটু ওড়ার
ধরে ওকে রাখবে এমন নেই তাে কোনাে খাঁচা।
আর রাগ তুই পুষিস না মা মনের অন্তঃপুরে।
অন্ধ বলে তিনটে বছর
রইলাে সে তাে ঘরের ভিতর।
বিধান মতে ঢের হয়েছে,
মনের কালো সব ধুয়েছে।
নিষ্পাপ ঐ ভাইটাকে মা খুব দেখতে ইচ্ছা করে।
মনে পড়ে সেই রাতের কথা
খামের ভিতর জীবন-গাথা-
সেই রাতেই ওর হাতে-খড়ি, প্রথম কলম ধরা
পাতার ওপর লিখেই চলা, বর্ণমালা ভরা।
দাদারা তখন মত্ত খেলায়, হাঁকছে দুই-চার,
দু’চোখ ভরে সে শিখছে নিয়ম, মন জুড়ে তােলপাড়।
লিখতে বসে ছিড়ছে পাতা, আবােল-তাবােল ভাষায়,
চোয়াল দুটি শক্ত তখন আবিষ্কারের নেশায়।
বাঁধ ভেঙ্গে স্রোত বইছে, আলগা হচ্ছে খাতা
বেহুশ হয়ে মাপছে কোমল দেহের গভীরতা।
কুয়াশা চিড়ে চলছে ছুটে, গভীর হচ্ছে রাত
উষ্ণ বাহুর কণ্ঠরােধে হিমেল আর্তনাদ।
মুড়ছে পাতা, উড়ছে পাতা, পুড়ছে রাশি-রাশি,
উল্লাসে মন মাতােয়ারা ভায়ের সেকি হাসি!
হাত ভিজেছে লাল রক্তে, শরীর ভেজা ঘামে
খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জানছে সে সব, এত তাড়াতাড়ি থামে?
জীবন-খাতার শেষ অধ্যায়, অন্ধকার নামে-
লন্ডভন্ড টুকরোগুলো সে পুরলাে আবার খামে।
ফেললাে ছুঁড়ে পথের ধারে যা ছিলাে আয়ােজন,
জানা-শেখা-বােঝার শেষে আর কী বা প্রয়ােজন?
এরপরেও মা দুষবি ওকে? কী বা ওর দোষ?
আইন যাকে দিচ্ছে ছেড়ে, তাের কেন আফসােস?
সতেরাে সবে, জানত নাকি কোনটা খারাপ-ভালাে!
আঠারাে-তেই বুদ্ধি খােলে, জ্বলে মনের আলো।
আমার একটা পরামর্শ, মা সবাইকে দিস বলে-
পড়াশুনাটাও শুরু করা উচিত আঠারো বছর হলে।
গণিত-ভুগােল-বিজ্ঞান কি এতটাই সােজা?
বুদ্ধি-সুদ্ধি ছাড়া এসব শুধুই পিঠের বােঝা।
আপনি বুঝবে ভালো-খারাপ হলে সাবালক,
তার আগে সব শিক্ষা-দীক্ষা আইনে বন্ধ হােক।
‘নাবালকদের শিক্ষা দিলে হবে হাজতবাস’
হতে পারে না জগৎ সভায় এমন বিল পাশ?
যাক মা, আমি ভালােই আছি, নই একটুও একা,
প্রায় রােজই কারাে না কারাের সাথে হয়ে যায় দেখা।
ধনী-গরীব, ধর্ম-বর্ণ কারাের নেই ছাড়,
মা-বােনেদের মানতেই হয় ভাইদের আবদার।
তাই ভাবছি এবার জন্ম নেবো ঐ ভাইটির ঘরে,
ছিড়ে যাওয়া মনটাকে ও দেবে সেলাই করে।
দাদা বলে ডাকবাে এবার, হাতে বাঁধবো রাখি,
রক্ষা করবে বোনকে তখন দেবে না কোনাে ফাঁকি।
বলবাে ওকে, “দাদা আমার একটা কথা রাখ,
প্রলােভনে পা দিবি না যতই হাতছানিটা থাক।
আর বাসে তুই চড়বি না, আর করবি না খেলা
আর করবি না শরীর নিয়ে ধ্বংস, অবহেলা।
তাও যদি তাের মনের ভিতর নেশার আগুন জ্বলে আমি তো আছি,
আবার না হয় তোর খেলাতে আমিই যাব চলে।
ডেকে নিস আরাে যারা চায়, আরাে যারা খেলোয়াড়
বোনটাকে তুই রাখবি করে খেলার হাতিয়ার।
কথা দিলাম কাঁদবো না, আর করব না চিৎকার,
মরে তাে আমি আগেই গেছি, মরব না বার বার।।
ইতি
অভয়া
Author : Saikat Das

(saikat.cgr@gmail.com)
Filmmaker, Singer, Author
আগলে রাখতে চাই
গহীনে, বড় অতলে ডুবেছে কত সম্পদ
যেন দ্বারকা নগরী
এ কোন অবক্ষয়ের হলাম সামিল…
সুশোভিত রাজপথ জুরে বীর-গাথা,
প্রেম-গাথা
লাবণ্যে ভাস্বর হয়ে ছিল।
ব্যার্থ রাজদণ্ড
বড় অসহায় হয়ে লণ্ডভণ্ড!
বেসামাল পথের কাঁকর
রাখতে পারিনি ধরে।
সখা!
তুমি আমি না-পারায় প্রায় এক
তবু,
দ্বারকা জাগাতে তুমি কিছুই করোনি;
আর আমি
সেঁচে চলি জল;
সম্পদ ফেরাতে চাই ঘষে মেজে,
তাপে সেঁকে আগলে রাখতে যাই।
Author : Sumitabha Mandal

