১) ফুটপাথটা আজও অপেক্ষায় আছে…
একদিন সোনালী বিকেলে
অনেকটা দূর এগিয়ে ছিলাম যেতে যেতে,
শহরের চওড়া রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে ফুটপাথটা,
সেই ছোট ছোট বাচ্চাদের জন্য, যারা স্কুল ছুটির শেষে-
“বেলুন-কাকু! বেলুন-কাকু!
আমার এই বেলুনটা চাই!” বলে বায়না করতো,
কেউ অন্য রঙের আর কেউ বা বড় বেলুন চাইতো |
এইভাবে অনেক দিন কেটে যায়,
আজও ফুটপাথটার কাছে একটা বড় কৃষ্ণচূড়ার গাছ আছে
তারই ফাঁক দিয়ে দেখি-
সেই ফুটপাথটা কেমন যেন একা দাঁড়িয়ে আছে,
কিন্তু আজ সেই বেলুন-কাকু আর নেই,
স্কুলের শেষ ঘন্টায় যখন বাচ্ছারা বাড়ি ফেরে,
বৃষ্টি ঝরে চোখের জল হয়ে ||
Author : Sukriti Dhang
২) অচেনা পথ
হেঁটেছি অন্ধকার এক রাস্তায়
জোৎস্না রাত্রিতে ঝিঁঝির ডাক
ওই বট গাছে বসে থাকা পেঁচা
মনে হয় আমায় সঙ্গ দিতে চায় ||
বয়ে যাওয়া নদীর কলকল শব্দ
ফুটে ওঠা তারার প্রতিফলন
মনে হচ্ছে তারাগুলো যেন নেমে এসেছে
শীতল দিনের স্তব্ধতা ||
ঠান্ডা হাওয়া চাদর মুড়ি আমায় ঘিরে
ফাঁকা রাস্তার নিঝুমতার গন্ধ
হেঁটেছিলাম অচেনা অনেকটা পথ
দূরে একটা নিভু-নিভু আলো
কেন যে বারে বারে আসে ফিরে ||
Author : Sukriti Dhang

৩) মুখোমুখি
কিশোর, তুমি বড় হয়ে গেছো..
দিগন্ত ছোঁয়া আসমানী নীল তোমায় আর মুগ্ধ করেনা
স্কাই-স্ক্র্যাপারের মাঝ দিয়ে একফালি আকাশ দেখে বিরক্ত লাগে বরং;
কোলেপুকুরে পানকৌড়ির ডুবকি দেখতে দেখতে তোমার কত বেলা কেটে গেছে,
এখন রবিবারের পড়ন্ত দুপুরে সুইমিং পুলে গা এলিয়ে দাও ঠিকই, কিন্তু একটা মাছরাঙা যেন পাশের বাড়ির চিলেকোঠা থেকে তোমায় দেখে হাসে।
এই কংক্রিটের ফ্যাকাশে নীল আকাশ, সুইমিং পুলের স্বচ্ছ নীল জল কোনোটাই তোমার না।
তবুও মেকি অধিকারবোধে আপন করে নিতে চাও সব।
বড় হওয়ার যন্ত্রনা থেকে যায়..
কিশোর, তুমি বড় হয়ে গেছো..
প্রেমিকার পাশে বসে “Hershey’s” ভাগ করে খাও এখন;
লেবু লজেন্স তবুও যেন পিছু ছাড়তে চায় না, কেউ যে কেনো আর ঠোঁট জিভ লাল করা একটা লজেন্স অফার করে না!
তুমি বুঝতে পারো বড় হতে চাওয়ার লোভটা সীমাহীন না হলেও হতো..
ব্যালকনিতে কেয়ারির ল্যাভেন্ডারের খুশবু ভেসে আসে মাঝে মাঝে জানালার ফাঁক বেয়ে,
তুমি তখন আলতো হাতে আইপ্যাড ধরে সকালের “ইন শর্টস” – এ মুখ ডুবিয়ে;
হঠাৎ মনে হয়, ল্যাভেন্ডার এর জায়গায় কেনো এক থোকা শিউলি ফুল হলো না?
সপ্তমীর সকালে ফিরে যেতে চাও আবার!
কিন্তু তুমি তো অনেক বড় হয়ে গেছো..
শীতের সকালে হালকা রোদে মজুমদার কাকুদের রোয়াকে বসে আনন্দবাজারের শেষ পাতায় মুখ ডুবিয়ে তুমি,
মা পরম আদরে তেল মাখা মুড়ি আর চা রেখে দিতো ঠিক পাশে, মনে পড়ে তোমার?
এখন তো মাঝে মাঝেই সকালের মুসাম্বির জুস তেতো লাগে, আধ পাকা লেবু নাকি ঐ বিস্বাদ খবর রাশি – কারণ বুঝে উঠতে পারো না!
কিশোর, বড় হওয়ার বড়াই করবে কি নিয়ে?
তুমি এখন বোঝো, মুখে বোরোলিন আর হাতে বাঁশের ক্রিকেট ব্যাট থাকা বিকেলগুলো ফিরবে না;
হঠাৎ একটা জেট প্লেন একরাশ সাদা ধোঁয়ার আলপনা এঁকে চলে গেলে একঝাঁক সরল মুখ আর আকাশের দিকে চেয়ে থাকবে না!
তুমি বরং হাসি মুখের পিছনে কপটতা চিনতে শেখার খেলা রপ্ত করতে ব্যস্ত এখন;
কিশোর,বড় হতে হতে বুড়োটে হচ্ছো, জানো?
ফিরে চলো, যাবে ফিরে? কিছুটা সময় মায়ের আঁচলে বাঁধা ছিল, তোমার জন্য রাখা আছে এখনো….
Author : Murali Mohan Ghosh

